ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থায়ী মন্দির নির্মাণে জমি বরাদ্দ চেয়ে আরডিএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী পুঠিয়া রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পালঙ্ক উদ্ধার, ঠাঁই হবে জাদুঘরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান এশিয়া থেকে শেষ বিমানবাহী রণতরী সরাচ্ছে পেন্টাগন হরমুজ প্রণালি ইরানেরই ছিল, আছে এবং থাকবে—ট্রাম্পের দাবিতে তেহরানের কঠোর জবাব সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় রেজিস্টেন্স ও মদ জব্দ প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখেই অভিনেত্রীর আত্মহত্যা চুমুকাণ্ডে বিব্রত ‘গরম মসলা’ অভিনেত্রী, বললেন ‘ভুল কিছু করিনি’ রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, নাগরিক সেবায় গুরুত্ব দিতে হবে: রাসিক প্রশাসক শেখ হাসিনা চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছে: রিজভী ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় বাবা, ফটকে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু বাঁচতে চান সাংবাদিক শফি আলম সাপের কামড়ে মারা যাওয়া নারীকে ‘জীবিত’ করতে কবরস্থানে ওঝার ঝাড়ফুঁক রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-২৫ নওগাঁয় খাল খননে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের রূপালি সম্পদ-ভূমিমন্ত্রী লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু প্রথম বিবাহবার্ষিকীর আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে লিজা আক্তারের

নওগাঁয় খাল খননে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত

  • আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন
নওগাঁয় খাল খননে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত নওগাঁয় খাল খননে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত
নওগাঁ জেলার ১০টি উপজেলায় ১৩টি মরা খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম খরচ হওয়ায় অবশিষ্টাংশের ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১০টি উপজেলার ১৩টি খাল পুনঃখননের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা। যার মধ্যে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৪১৫ টাকা। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

খালগুলো পুনঃখননের ফলে ইতোমধ্যেই স্থানীয় অধিবাসীরা সুফল পেতে শুরু করেছেন। একসময়ের প্রায় মৃত এসব খালে সঞ্চিত পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করে শুরু হয়েছে কৃষিকাজ। এছাড়া খালে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

অপরদিকে একাধিক উপজেলায় খাল খননের কাজ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে, আছে অভিযোগ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয়ে খাল খননের পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা। এছাড়া ২.০৪০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের হামড়ার বিল হতে কৃষ্ণপুর অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ৪২ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা।

রাণীনগর উপজেলার ৩ কি.মি. দৈর্ঘ্যের দেওলা বড়গাছা ব্রিজ হতে মালশন গিরিগ্রাম অভিমুখে খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে এবং স্থানীয় বেকার ও অসহায় মানুষদের অংশগ্রহণে খাল পুনঃখনন কাজে ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ের পর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯১০ টাকা।

আত্রাই উপজেলার ১.১৪০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের নওদাপাড়া সিংসাড়া খাল হতে শুকচারা মাঠ অভিমুখে খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬২৬ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ২৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয় শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬২৬ টাকা।

বদলগাছী উপজেলার ০.৭৫০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের চাঁপাইনগর বাছিরের বাড়ি হতে আধাইপুর শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ৬০৫ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯০ টাকা। এছাড়া ১.২ কি.মি. দৈর্ঘ্যের ঢেঁকড়া সফির জমি হতে খোর্দ্দভূবন ব্রিজ পর্যন্ত খাল/ক্যানেল সংস্কারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২১০ টাকা। বদলগাছী উপজেলা থেকে খাল খনন ও সংস্কার কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ২.৩ কি.মি. দৈর্ঘ্যের নারায়ণপুর ব্রিজ থেকে কুড়াইল গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৯ টাকা।

মান্দা উপজেলার ১.৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যের হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ হতে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ১ হাজার ১৫৩ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩২৭ টাকা। এছাড়া ২.১ কিমি দৈর্ঘ্যের বাঁকাপুর মৌজার বাঁকাপুর দফাদার মোড় মেইন রোড হতে বিল উথরাইল খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এই দুটি খাল খনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়সারাভাবে খালের খনন কাজ শেষ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পোরশা উপজেলার ৩.২৫০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের ইলাম মৌজার মাক্তাপুর মোড় হতে হাতিখোচা বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। খনন কাজে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৮ টাকা ব্যয় করার পর সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৯ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার ২ কি.মি. দৈর্ঘ্যের বিষ্ণুপুর বাবুল হাজীর জমি হতে বিষ্ণপুর ব্রিজ হয়ে সন্তোষপাড়া ছাতড়া ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৭ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলার ১.৮ কি.মি. দৈর্ঘ্যের ০২নং ওয়ার্ডের চক আবদাল (কাষ্ণিপুকুর) ইট ভাটার নিকট হতে পত্নীতলা আবেদিয়া স্লুইসগেট অভিমুখে খাল খননের জন্য ৫৪ লাখ ৬৮ হাজার ১২৬ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৫২৬ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা।

ধামইরহাট উপজেলার ২ কি.মি. দৈর্ঘ্যের চৌঘাট ব্রিজ হতে দক্ষিণ দিকে ছিলিমপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ২১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৩০ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৮০ টাকা।

খাল খননের পর অবশিষ্ট কতো টাকা জমা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, আমার এখন মনে নেই, তবে ডিসি অফিসে তথ্য দেওয়া হয়েছে। আর খাল খননের অনিয়ম হয়েছে কি না এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ দেননি।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, খাল খননের পর খালের পাড় দিয়ে ঘাস জাতীয় নানা উদ্ভিদ লাগানো এবং খালের পুরো পাড়জুড়ে নানা জাতের পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে খালের পাড়টি স্থায়ীত্ব হবে। আর সুফল পাবে ওই এলাকার মানুষরা। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক খাল খনন কাজ শেষে কিছু অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরতও প্রদান করা হয়েছে। তবে উপজেলাজুড়ে আরো যে মৃতপ্রায় খালগুলো রয়েছে সেগুলোও পুনঃখনন করা খুবই প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের মৃত প্রায় খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার খালগুলো খনন কিংবা পুনঃখননের চেষ্টা করা হয়েছে। স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি খাল খনন করা হয়েছে। আর যেগুলোতে একটু সমস্যা দেখা গেছে সেগুলো পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃত এই খালগুলো খননের ফলে জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, মাছের বংশবৃদ্ধি হবে, পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কম হবে, গ্রামীণ পর্যায়ে ছোট নৌপথ সচল করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের রূপালি সম্পদ-ভূমিমন্ত্রী

মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের রূপালি সম্পদ-ভূমিমন্ত্রী